মঙ্গলে জটিল জৈব অণুর সন্ধান, প্রাণের সম্ভাবনায় নতুন ইঙ্গিত
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৩-০৪-২০২৬ ০৩:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-০৪-২০২৬ ০৩:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণায় নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছে নাসা। সংস্থাটির কিউরিওসিটি রোভার লাল গ্রহের প্রাচীন শিলায় জটিল জৈব অণুর উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে, যা অতীতে সেখানে প্রাণের অনুকূল পরিবেশ থাকতে পারে—এমন ধারণাকে আরও জোরালো করছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে গঠিত বেলেপাথরের নমুনায় এমন উপাদান পাওয়া গেছে, যা জীবনের মৌলিক রাসায়নিক ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
রোভারটি মঙ্গলের গেল ক্রেটার-এর গ্লেন টরিডন এলাকা থেকে কাদামিশ্রিত শিলা সংগ্রহ করে। পরে রোভারের ‘স্যাম্পল অ্যানালাইসিস অ্যাট মার্স’ (SAM) যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সেগুলোর রাসায়নিক বিশ্লেষণ করা হয়। প্রযুক্তিবিষয়ক মাধ্যম এনগ্যাজেট এ তথ্য জানিয়েছে।
এই বিশ্লেষণে ‘ওয়েট কেমিস্ট্রি’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেখানে প্রথমবারের মতো টেট্রামিথাইল অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (TMAH) প্রয়োগ করা হয়েছে। এই রাসায়নিক যৌগ বড় জৈব অণুগুলোকে ভেঙে ছোট অংশে রূপান্তর করতে সাহায্য করে, ফলে সেগুলো শনাক্ত করা সহজ হয়।
পরীক্ষায় ২০টিরও বেশি জৈব অণুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাপথলিন ও বেনজোথিওফিনের মতো তুলনামূলক জটিল যৌগ রয়েছে। পাশাপাশি, গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ‘এন-হেটেরোসাইকেল’ ধরনের অণুও শনাক্ত হয়েছে, যা ডিএনএ ও আরএনএ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
গবেষণার প্রধান লেখক এমি উইলিয়ামস নাসার এক বিবৃতিতে বলেন, “এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব অণু নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ জটিল জৈব যৌগ তৈরির প্রাথমিক উপাদান হতে পারে। এর আগে মঙ্গলের পৃষ্ঠে বা সেখান থেকে আসা উল্কাপিণ্ডে এ ধরনের অণুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি।”
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফল মঙ্গলে অতীতে প্রাণের অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে, গ্রহটিতে কোনো এক সময়ে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান বিদ্যমান থাকতে পারে।
গবেষণাটি আরও দেখিয়েছে যে, জৈব পদার্থ মঙ্গলের পরিবেশে কোটি কোটি বছর ধরে টিকে থাকতে সক্ষম—যা ভবিষ্যৎ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিতে পারে।
গবেষকরা আশা করছেন, এই তথ্য ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে আরও উন্নত পরীক্ষার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন রোভার এবং শনির উপগ্রহ টাইটানে পরিকল্পিত ড্রাগনফ্লাই মিশন-এ একই ধরনের রাসায়নিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই মিশনগুলো ২০২৮ সালের আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী নেচার-এ।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স